রাজনীতি

রাজপথে তরুণদের অবস্থান কোথায়?

মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশজুড়ে আছে তরুণ ছাত্র সমাজ। বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তরুণ নেতৃত্ব ও তাদের সচেতনতা নতুন মাত্রা যোগ করেছে। রাজপথের আন্দোলন কিংবা গণদাবির মুখে নীতি সংশোধনে তরুণদের ভূমিকার দৃশ্যমান অগ্রগতি থাকলেও, স্থায়ী নীতি-নির্ধারণী পর্ষদ কিংবা সংসদীয় প্রক্রিয়ায় তরুণদের টেকসই উপস্থিতি এখনো বেশ সীমিত। অধিকাংশ রাজনৈতিক দল তরুণদের পদায়ন করলেও তা মূলত অঙ্গ-সংগঠন বা মাঠপর্যায়ের কর্মসূচি বাস্তবায়নেই সীমাবদ্ধ থাকছে।

বাস্তবসম্মত নীতি প্রণয়ন, অর্থনৈতিক রূপরেখা তৈরি কিংবা দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় পরিকল্পনার টেবিলে তরুণদের কণ্ঠস্বর প্রায়শই মূল সিদ্ধান্ত থেকে দূরেই থেকে যায়। ফলে নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে তরুণদের অংশগ্রহণকে এক ধরনের প্রতীকী বা টোকেনিজম হিসেবে দেখার প্রবণতা তৈরি হয়েছে, যা তাদের প্রকৃত ক্ষমতার কাঠামোগত রূপান্তর ঘটাতে পারছে না।

তবে এর ইতিবাচক দিকও একেবারেই অনুপস্থিত নয়। তথ্যপ্রযুক্তির সুবাদে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং তৃণমূল পর্যায়ে তরুণরা বিভিন্ন সামাজিক, পরিবেশগত ও শিক্ষাসংক্রান্ত নীতিতে প্রভাব ফেলতে সক্ষম হচ্ছে। তরুণদের চাপেই পরিবেশ রক্ষা, ডিজিটাল অধিকার এবং শিক্ষা পদ্ধতির আধুনিকীকরণের মতো বিষয়গুলো বর্তমানে জাতীয় এজেন্ডায় স্থান পাচ্ছে। নীতি-নির্ধারণে তরুণদের এই পরোক্ষ প্রভাব ধীরে ধীরে কাঠামোগত পরিবর্তন আনছে, যা ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করে।

নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে তরুণদের কণ্ঠস্বর কেবল আন্দোলন বা রাজপথের সরব উপস্থিতির মধ্যে সীমিত না রেখে রাষ্ট্রীয় স্থায়ী প্রক্রিয়ায় রূপ দিতে হবে। তরুণদের রাজনৈতিক ও নীতি-নির্ধারণী সচেতনতাকে প্রকৃত নেতৃত্ব গঠনে কাজে লাগাতে হলে দলগত ও জাতীয় পর্যায়ে তাদের জন্য নির্দিষ্ট কোটা বা নীতিগত সুযোগ সৃষ্টি করা জরুরি। তরুণদের কেবল পরিবর্তন বা বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করে, মূল সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের সরাসরি প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ও দাবি।