বিদায়ী মঞ্চেও বজায় ছিল তাঁর একচ্ছত্র আধিপত্য
বিদায়ী মঞ্চেও বজায় ছিল তাঁর একচ্ছত্র আধিপত্য-পেনাল্টি থেকে নিজে একটি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও দুটি গোল। ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজতেই স্টেডিয়াম জুড়ে নেমে আসে এক মহাবেদনাশ্রিত আবেগ। মেসি, দয়া করে যেও না কিংবা তোমার ফুটবলের জন্য চিরন্তন ধন্যবাদ-সমর্থকদের এমন অসংখ্য ব্যানার ও কান্নায় ভিজে আর্জেন্টাইন ফুটবলের এক ঐতিহাসিক রাতের রূপদান হয়।
একটি সোনালী যুগের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটল। দীর্ঘ ২১ বছরের দীর্ঘ ও বর্ণিল অধ্যায়ের ইতি টেনে আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের জার্সি চিরতরে খুলে রাখলেন সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসি। বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের দাপুটে জয়ে নিজের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচটি স্মরণীয় করে রাখলেন এই মহাতারকা।
২০০৫ সালের আগস্টে হাঙ্গেরির বিপক্ষে লাল কার্ড পেয়ে শুরু হওয়া আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারটি যে ফুটবল ইতিহাস নতুন করে লিখবে, তা হয়তো তখন কেউ কল্পনাও করেনি। আর্জেন্টিনার হয়ে ২০৮টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে মাঠে নেমে ১২৬টি গোল ও ৬৯টি অ্যাসিস্টের অনন্য রেকর্ড গড়েছেন মেসি। আলবিসেলেস্তেদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোল ও সর্বাধিক অ্যাসিস্টের এই মাইলফলক হয়তো বহু বছর অক্ষত থাকবে।
কেবল ব্যক্তিগত রেকর্ডই নয়, আন্তর্জাতিক ফুটবলে ট্রফির খরাও ঘুচিয়েছেন তিনি। ২০২১ সালের কোপা আমেরিকা জয় দিয়ে যে শিরোপা উৎসব শুরু হয়েছিল, তা পূর্ণতা পায় ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপ, ফিনালিসিমা এবং ২০২৪ কোপা আমেরিকা জয়ের মাধ্যমে। ৪টি প্রধান আন্তর্জাতিক ট্রফি জিতে জাতীয় দল থেকে বিদায় নিলেন এই মহা-নায়ক।
মেসির এই বিদায় কেবল একজন খেলোয়াড়ের মাঠ ছাড়ার ঘটনা নয়, বরং বৈশ্বিক ফুটবলের একটি গৌরবময় অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি। গ্যালারিতে উপস্থিত কোটি কোটি ভক্ত ও বিশ্বজুড়ে ফুটবল প্রেমীদের চোখে তিনি কেবল একজন অ্যাথলিট নন, বরং স্বপ্ন পূরণের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার যে শিক্ষা তিনি রেখে গেলেন, তা তরুণ প্রজন্মের কাছে চিরকাল অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।
মাঠে সবসময় নিজেকে উজাড় করে দেওয়া এবং শেষ ম্যাচেও নিজের আলোর চেয়ে সতীর্থদের প্রাধান্য দেওয়ার মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন কেন তাঁকে ফুটবলের জিবাট বা GOAT বলা হয়। বুটজোড়া তুলে রাখলেও ২১ বছরের এই মহাকাব্যিক পথচলা আন্তর্জাতিক ফুটবলের স্মৃতিপটে খোদাই করা থাকবে আজীবন।
