জাতীয়

বাংলাদেশে আরও ছয় কোটি মানুষ দরিদ্র হওয়ার পথে হাঁটছে

বাংলাদেশে মানুষ গত কয়েক বছর থেকে গরিব থেকে আরো গরিব হওয়ার পথেই হাটছে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, গত চার বছরে দেশটিতে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৮০ লাখ। এর মধ্যে গত এক বছরেই প্রায় ২১ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছেন। আরও প্রায় ছয় কোটি ২০ লাখ বাংলাদেশি, যারা এখন নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণিতে অবস্থান করছেন, তারাও দরিদ্র শ্রেণিতে নেমে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন বলেও সতর্ক করেছে বিশ্বব্যাংক। এজন্য কোভিড মহামারি, জ্বালানি সংকট, মুদ্রাস্ফীতি, বিনিয়োগ, রাজনৈতিক অস্থিরতাকে দ্বায়ী করছে বিশ্বব্যাংক।

প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে বিপুল সংখ্যক এসব মানুষকে সুরক্ষা দিতে না পারলে বাংলাদেশ যে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে, দুর্বল অর্থনীতির বর্তমান বাস্তবতায় সেটি সামাল দেওয়া সরকারের জন্য কঠিন হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যমতে, সত্তরের দশকে বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার যেখানে প্রায় ৭০ শতাংশ ছিল, পাঁচ দশকের মধ্যে সেটি উল্লেখযোগ্য হারে কমে ২০ দশমিক পাঁচ শতাংশে নেমে আসে। ২০২০ সালে বাংলাদেশকে দারিদ্র্য বিমোচনে বিশ্বের ‘মডেল’ ঘোষণা করেছিল করে বিশ্বব্যাংক।

এর দুই বছরের মাথায় দারিদ্র্যের হার আর কমে ১৮ দশমিক সাত শতাংশে দাঁড়ায় বলে বিবিএসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।প্রতিষ্ঠানটির ২০২২ সালের খানা আয় ও ব্যয় জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশে তখন অতি দারিদ্র্যের হার কমে হয়েছিল পাঁচ দশমিক ছয় শতাংশ।

দারিদ্র্য বিমোচনের এই ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৩১ সালের মধ্যে দেশটি পুরোপুরিভাবে দারিদ্র্যমুক্ত হবে বলে তখন পূর্বাভাস দিয়েছিলেন পরিসংখ্যান ব্যুরোর কর্মকর্তারা। কিন্তু বছর না ঘুরতেই পাল্টে যেতে থাকে পরিস্থিতি।

রাজধানী বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানায়,‘আর পারা যাচ্ছে না। বাজারে শাক-সবজি থেকে শুরু করে তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ, বাসভাড়া, ঘরভাড়া- সবকিছু যেভাবে বাড়ছে, তাতে খেয়ে-পরে বেঁচে থাকাই দিন দিন কঠিন হয়ে যাচ্ছে’।গত কয়েক বছরে জীবনযাত্রার খরচ যেভাবে বেড়েছে,বিপরীতে আয় কিন্তু থমকে আছে।বেতনের টাকা দিয়ে মাস পার হচ্ছে না। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে জ্বালানি তেলের বাজারে। সেইসঙ্গে, বেড়েছে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট।

এতে শিল্প-কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, যার ফলে নতুন করে কর্মী ছাঁটাইয়ের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক।

বাংলাদেশে টানা চার বছরেরও বেশি সময় ধরে মূল্যস্ফীতির হার উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের জীবনে এর বড় প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।