মানুষের আয় না বাড়লেও জীবনযাপনের ব্যয় বেড়েছে:নাহিদ ইসলাম
মানুষের আয় না বাড়লেও জীবনযাপনের ব্যয় বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। লেখেন, ‘একটা ডিম ১৫ টাকা।’ তাঁর ভাষ্য, এই চার শব্দের বাক্যটি বাংলাদেশের কোটি নিম্নবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে আতঙ্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেসব পরিবারের নিয়মিত মাছ মাংস কেনার সামর্থ্য নেই, তাদের জন্য ডিম প্রোটিনের অন্যতম প্রধান উৎস। হলের শিক্ষার্থী ও মেসে থাকা ব্যাচেলর তরুণদের জন্যও ডিম গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য।
নাহিদ ইসলাম লেখেন, বর্তমানে এক হালি ডিমের দাম ৫৫ টাকা। শুধু ডিম নয়, চাল, আটা, তেল, চিনি, মুরগি, মাছ, সবজিসহ প্রায় সব মৌলিক খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে। ব্রয়লার মুরগির কেজি ২০০ টাকা এবং কয়েক দিন আগে দুধের দামও বেড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মানুষের আয় না বাড়লেও জীবনযাপনের ব্যয় কেন বাড়ছে, এর পেছনে তিনটি কারণ তুলে ধরেছেন এনসিপির আহ্বায়ক।
প্রথম কারণ হিসেবে তিনি বাজেটের কথা উল্লেখ করেন। নাহিদ ইসলাম লেখেন, নির্বাচনের আগে তারেক রহমান বলেছিলেন, ‘মেগা প্রজেক্ট মানেই মেগা দুর্নীতি।’ অথচ মেগা প্রজেক্ট ও বিভিন্ন ধরনের কার্ড ছাপানোর জন্য প্রায় ২০ শতাংশ বড় বাজেট করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
দ্বিতীয় কারণ হিসেবে জ্বালানির দাম বাড়ানোর বিষয়টি তুলে ধরেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়ালে সেচ, পোলট্রি, মাছ চাষ, হিমাগার, পণ্য পরিবহন, দোকানসহ বিভিন্ন খাতের ব্যয় একসঙ্গে বেড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত এই বাড়তি খরচ ক্রেতাকেই বহন করতে হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তৃতীয় কারণ হিসেবে তিনি সিন্ডিকেট ও রাজনৈতিক চাঁদাবাজির কথা উল্লেখ করেন। নাহিদ ইসলামের দাবি, এসব কারণে উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক বেশি দামে সাধারণ মানুষকে পণ্য কিনতে হয়। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের ওপর।
তিনি লেখেন, নিম্ন ও মধ্যবিত্তের আয়ের প্রায় পুরোটাই মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে ব্যয় হয়। জীবনযাত্রার খরচ ১০ শতাংশ বাড়লে ধনীদের ওপর যে প্রভাব পড়ে, নিম্ন ও মধ্যবিত্তের ওপর তার চেয়ে অনেক বেশি চাপ তৈরি হয়। তখন তাদের সামনে প্রশ্ন দাঁড়ায়‘কোনটা না কিনলে চলতে পারবো?’
তবে এর বিকল্প ছিল বলেও দাবি করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি লেখেন, এনসিপি তাদের নির্বাচনি ইশতেহার ও ছায়া বাজেটে দেখিয়েছে, ধনীদের কর ফাঁকি বন্ধ করা এবং অপ্রয়োজনীয় মেগা প্রজেক্ট বাদ দিলে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব। এর মাধ্যমে মধ্যবিত্তের ওপর কর কমানো, নিত্যপণ্যের ওপর ভ্যাট প্রত্যাহার এবং পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানিতে বাড়তি ভর্তুকি দেওয়ার সুযোগ ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
কিন্তু সরকার সেই পথে হাঁটেনি বলে অভিযোগ করেন এনসিপির আহ্বায়ক। তাঁর ভাষ্য, এর ফলে নীতির সুফল কারা পাবে, সেটিও প্রশ্ন। তিনি দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড হাতে বা মেগা প্রজেক্টের উদ্বোধনে প্রচারের সুযোগ পাবেন, জ্বালানি খাত বেসরকারি হলে বিএনপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বড় ব্যবসায়ীরা ব্যবসার সুযোগ পাবেন এবং মেগা প্রজেক্টের বড় অঙ্কের কমিশনে মন্ত্রী এমপিদের স্বজনেরা ভাগ বসাবেন।
পোস্টের শেষ দিকে নাহিদ ইসলাম লেখেন, ‘অন্যদিকে, কোটি মা আজ রাতে ১৫ টাকার একটা ডিম ভেজে কয়েক ভাগ করে সন্তানদের পাতে তুলে দেবেন।’
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এসব মন্তব্য করেন।
