পর্যটন শহর রাঙামাটিতে নেই কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন
আজ বিশ্ব পর্যটন দিবস। এ উপলক্ষে রাঙ্গামাটিতে আয়োজন করা হয়েছে পর্যটন মেলা, র্যালী ও আলোচনা সভা। তবে পর্যটন খাতের উন্নয়ন যেন এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। পর্যটন নগরী হিসেবে অপার সম্ভাবনা থাকলেও এখনো পর্যটক বান্ধব শহর হিসেবে গড়ে উঠেনি পার্বত্য জেলা রাঙামাটি। পর্যটন খাতে হয়নি কোনো আশানুরুপ দৃশ্যমান উন্নয়ন।
এছাড়াও অপরিকল্পিত নগরায়ন, যত্রতত্র গাড়ী পার্কিং আর অপরিচ্ছন্নতার কারনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে জেলার পর্যটন শিল্পে। রাঙ্গামাটির পর্যটন খাতকে এগিয়ে নিতে সরকারী-বেসরকারী পর্যটন খাতে সমন্বয় সাধন করে দ্রুত উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করার দাবী সংশ্লিষ্টদের।
চারদিকে সবুজ পাহাড়, মাঝখানে নীল জলরাশি, প্রকৃতি যেন নিজের হাতে সাজিয়েছে রূপের রাণীখ্যাত রাঙামাটিকে। কপ্তাই হ্রদের সাথে সবুজ পাহাড়ের যেন গভীর মিতালী। হ্রদ পাহাড়ের সৌন্দর্য্যে বিমোহিত হন দেশি বিদেশী পর্যটকরা। তবে দীর্ঘ দিন পর হলেও পর্যটন খাতে কোন উন্নয়ন ও সংস্কার হয়নি।
রাঙ্গামাটির আইকন খ্যাত পর্যটন ঝুলন্ত ব্রীজেও নির্মাণের পর হতে আধুনিকয়ান ও সংষ্কারের কোন ছোঁয়া লাগেনি। কাপ্তাই হ্রদ ড্রেজিং না হওয়ার প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে পানিতে ডুবে যায় ব্রীজটি। যার ফলে দিন দিন হতাশ ও বিমুখ হয়ে পড়ছে স্থানীয় ও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পর্যটকরা।
এছাড়াও শহরের প্রবেশদ্বারে পৌরসভার ডাম্পিং জোনের ময়লার স্তুপ ও দুর্গন্ধ, সড়কে যানজট, যত্রতত্র পার্কিং, ভাঙা রাস্তা আর এলোমেলো দোকানপাটের দৃশ্যপট ও রাস্তার পাশে আবর্জনার স্তুপ যা আগত পর্যটকদের যেমনি হতাশ করছে ঠিক তেমনি পর্যটক সংকটে লোকসানের মুখে পড়ছে পর্যটন নির্ভর ব্যবসায়ীরা।
রাঙ্গামাটিক পর্যটকদের জন্য পাবলিক টয়লেট, নির্ধারিত কোনো পার্কিং জোন ও পর্যটক সুবিধা সহায়ক অবতরণ ঘাট নেই। বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় রাঙ্গামাটিতে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা থাকা স্বত্ত্বেও এ খাতে উন্নয়নে সরকারী ও বেসরকারী সংস্থাগুলোর স্বদিচ্ছার অভাব রয়েছে বলে জানান পর্যটকরা। এদিকে দীর্ঘদিনেও রাঙামাটি শহরকে আধুনিক পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে না পারায় ক্ষোভ স্থানীয় উদ্যোক্তাদের।
আঞ্চলিক রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং পার্বত্য ভুমি জটিলতা পর্যটন শিল্পের বিকাশের বড় অন্তরায়। স্থানীয়দের অভিযোগ দীর্ঘ সময় ধরে সমস্যাগুলো নিয়ে কেউ কার্যকর ব্যবস্থা নেয় নি। এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে পর্যটন খাতে উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে স্থানীয় ও দেশি-বিদেশী উদ্যোক্তারা এগিয়ে আসবে বলে মনে করছেন এখানকার বিশিষ্টজন।
কাপ্তাই হ্রদকে ঘিরেও রয়েছে পর্যটন খাতের আরেক অপার সম্ভাবনা। তাই হ্রদ দূষণ ও অবৈধ দখল রোধ করতে হবে। পরিবহন খাতের উন্নয়ন, সুষ্ঠু নগর ব্যবস্থাপনা ও কমিউনিটি বেইজড পর্যটন শিল্প গড়ে তোলার তাগিদ ট্যুরিজম বিশেষজ্ঞদের।
পর্যটন খাতের উন্নয়নে বর্তমান সরকারের মহা পরিকল্পনা রয়েছে। তারই ধারাবিহকতায় রাঙ্গামাটি শহর ও বিভিন্ন উপেজলার পর্যটন কেন্দ্র ও প্রাকৃতিক ঝর্নাগুলো আরো আধুনিক ও পর্যটক বান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করার কথা জানিয়েছেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান। রাঙামাটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য শুধু বাংলাদেশে নয় বিশ্ববাসীর নজর কেড়ে নিতে পারে। পর্যটন খাতের এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে মহাপরিকল্পনাকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে। এ জন্য সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে। স্থানীয় বিনিয়োগ আরও টেকসই করতে ব্যাংক খাত থেকে পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন পর্যটন নির্ভর ব্যবসায়ীরা।
