বিশ্ব পুঁজিবাজারে চরম অস্থিরতা
বিশ্বব্যাপী ঋণের খরচ ও সম্পদ মূল্যের অন্যতম প্রধান মাপকাঠি-মার্কিন ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদ বেড়ে ৫.৩৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা ২০০২ সালের পর সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে ফ্রান্সে ১০ বছর মেয়াদি বন্ডের সুদ ২০০২ সালের পর সর্বোচ্চ প্রায় ৫ শতাংশে পৌঁছায় এবং যুক্তরাজ্যের ৩০ বছর মেয়াদি বন্ডের সুদ ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার ৬ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। জ্বালানি পণ্যের দাম বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতির চাপ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের প্রবৃদ্ধির কারণে অর্থনৈতিক উচ্চ সুদের হারের মেয়াদ দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন, ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ আরও অন্তত তিন দফায় সুদের হার বাড়াতে পারে।
বন্ড বিক্রির এই মহামারি শুধু সরকারি ঋণের খরচই বাড়াচ্ছে না, বরং শেয়ারবাজারকেও মন্দার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ইউরোপের শীর্ষ শেয়ার সূচক ‘স্টক্স ৬০০’ গত জুনের পর সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে এসেছে এবং ব্যাংক খাতের শেয়ার দর বড় ধরনের পতন দেখেছে। ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সের তথ্য অনুযায়ী, বিগত এক বছরে উন্নত দেশগুলো শুধু আন্তর্জাতিক সরকারি বন্ডের সুদ বাবদই ৩.৩ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি পরিশোধ করেছে-যা এআই, প্রতিরক্ষা কিংবা নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের বার্ষিক বৈশ্বিক খরচের চেয়েও অনেক বেশি।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রস্ত দেশগুলোর অন্যতম ফরাসি বন্ড বাজারে ব্যাপক দরপতন ঘটেছে। দেশটির ২০২৭ সালের বাজেট প্রস্তাবে কাটছাঁট ও কঠোর আর্থিক নীতির কারণে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ডিফল্ট ঝুঁকির বীমা মাশুল ২০১৩ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ ছাড়া যুক্তরাজ্যে সুদের চাপ রিয়েল এস্টেট খাতে আঘাত হেনেছে, যেখানে বাড়ি বিক্রির প্রবৃদ্ধি গত দুই বছরের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। জাপানেও টানা পাঁচ প্রান্তিক ধরে বন্ড সুদের দ্বিপক্ষীয় প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, সুদের হার দীর্ঘ সময় চড়া থাকলে পুঁজিবাজার ও অন্যান্য আর্থিক সম্পদে দরপতন আরও তীব্র রূপ নিতে পারে।
