জাতীয়

বিসর্জনের পর আবারও মা’র আগমনের প্রত্যাশা

আনন্দ-উচ্ছ্বাস, ঢাকের বাদ্য, সিঁদুর খেলা আর আরতি প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হলো এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব। দেশের প্রতিটি মণ্ডপে মণ্ডপে ছিল ভক্তদের উপচে পড়া ভিড়।

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এই আনন্দ উৎসবে শামিল হয়েছিলেন। মা দুর্গার প্রতি বিদায়বেলায় ভক্তদের চোখ ছলছল করলেও, বিজয়া দশমীর বিসর্জন পর্বটি সম্পন্ন হয়েছে সম্পূর্ণ সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর আবহে। তবে মা বিদায় নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সনাতন ধর্মাবলম্বী ভক্তকুলের মনে শুরু হয়ে গেছে এক নতুন অধ্যায়ের অপেক্ষা—আগামী বছর দেবী দুর্গা কোন বাহনে মর্ত্যে আসবেন এবং কী বার্তা নিয়ে ফিরবেন?

শাস্ত্রীয় পঞ্জিকা ও জ্যোতিষশাস্ত্রীয় হিসাব অনুযায়ী, দেবী দুর্গার আগমন ও প্রস্থান নির্ধারিত হয় সপ্তাহের বারের ওপর ভিত্তি করে। শাস্ত্রে বলা হয়েছে, রবিবার বা সোমবার দেবী মর্ত্যলোকে আগমন করলে তাঁর বাহন হয় ‘হস্তি’ বা হাতি। হাতিতে দেবীর আগমন অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। এর প্রভাবে প্রকৃতিতে শান্তি ও সমৃদ্ধি ফিরে আসে, এবং ফলমূল ও শস্যের উৎপাদন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়।

অন্যদিকে, শনি বা মঙ্গলবার দেবীর আগমন ঘটলে বাহন হয় ‘ঘোটক’ বা ঘোড়া, যা রাজনৈতিক অস্থিরতা, যুদ্ধ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের ইঙ্গিত বহন করে। বুধ বা বৃহস্পতিবার হলে বাহন দোলা বা পালকি, এবং শুক্রবার হলে দেবী আসেন ছাগলে বা মেষ চড়ে।

ভবিষ্যৎ পঞ্জিকা ও জ্যোতিষীয় গণনা অনুযায়ী, আগামী বছর অর্থাৎ পরবর্তী শরৎকালে দেবীর মর্ত্যে আগমন এবং বিদায়ের দিন ও বার কী হবে, তা নিয়ে পঞ্জিকাকারদের মাঝে গভীর আলোচনা ও হিসাব-নিকাশ শুরু হয়ে গেছে। ভক্তকুলের বিশ্বাস, মা দুর্গার প্রতিটি আগমন ও গমনের পেছনে একটি সুনির্দিষ্ট বার্তা লুকিয়ে থাকে।

ভক্তরা প্রার্থনা করেন, দেবী যেন প্রতিবারই এমন বাহনে আসেন যা মানবজাতি ও প্রকৃতির জন্য কল্যাণকর হয়। ঘোড়ায় আগমন যেমন যুদ্ধের বা আশঙ্কার বার্তা দেয়, তেমনি হাতি বা নৌকায় আগমন আশীর্বাদ ও প্রাচুর্যের বার্তা নিয়ে আসে।

বিজয়া দশমীর সিঁদুর খেলা ও মণ্ডপগুলোর কোলাহল ফুরিয়ে এখন বিষাদের সুর কাটতে শুরু করেছে। চারদিনের এই মহোৎসব শেষ হলেও ভক্তরা মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন আগামী বছরের দিনগণনা শুরু করার।