খেলাধুলা

অপরাজিত ২৯ ম্যাচ: নেশন্স লিগেও অব্যাহত ইয়ামাল-ঝড়

বিশ্ব ফুটবলের গতিপথ যখন ক্রমেই শারীরিক শক্তি ও অতি-যান্ত্রিক কৌশলের দিকে ঝুঁকে পড়ছে, ঠিক তখনই স্পেনের ফুটবলে এক ছান্দিক বার্তা নিয়ে আবির্ভূত হয়েছেন বিস্ময় বালক লামিন ইয়ামাল। মাত্র ১৬ বছর বয়সে জাতীয় দলের জার্সিতে সবচেয়ে তরুণ খেলোয়াড় হিসেবে অভিষেক হওয়ার পর থেকে ২০২৬ সালের বর্তমান সময় পর্যন্ত দলটির আক্রমণভাগের প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছেন তিনি। জাতীয় দলের হয়ে এখন পর্যন্ত খেলে ফেলা ম্যাচগুলোতে স্পেনের অপরাজেয় থাকার কীর্তি (নিয়মিত বা অতিরিক্ত সময়ে কোনো হার নেই, টাইব্রেকার ব্যতিকে) কেবল এক কাকতালীয় সংখ্যাগত অর্জন নয়; বরং এটি মাঠে তার প্রভাব, পরিপক্কতা এবং দলের জয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করার এক নিখাদ দলিল।

ইয়ামালের এই অভাবনীয় পথচলা আন্তর্জাতিক ফুটবলে নতুন মাইলফলক স্থাপন করে চলেছে। মাত্র ১৭ বছর বয়সে ইউরো ২০২৪-এ টুর্নামেন্টের সেরা তরুণ খেলোয়াড় নির্বাচিত হওয়া এবং দ্রুততম সময়ে গোল ও অ্যাসিস্টের রেকর্ড ভেঙে স্পেনকে ইউরোপিয়ান শ্রেষ্ঠত্ব এনে দেওয়া ছিল তার প্রতিভা প্রকাশের প্রথম বড় অধ্যায়। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ১৯ বছর বয়সে পা দিয়েই স্পেনের আক্রমণের প্রাণভ্রমরা হিসেবে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। এর মাধ্যমে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে ইউরো ও বিশ্বকাপ—উভয় ট্রফি স্পর্শ করার বিরল রেকর্ড নিজের নামে লিখে নেন এই তরুণ তারকা।

আন্তর্জাতিক ফুটবলেই নয়, চলমান উয়েফা নেশন্স লিগেও তার ফর্মের তোপ অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালে ওয়েম্বলিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই গোল করে স্পেনের ৩-২ ব্যবধানের স্মরণীয় জয় নিশ্চিত করতে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন ইয়ামাল। এই জয়ের মাধ্যমে স্পেনের হয়ে তার অপরাজিত থাকার রেকর্ডটি ২৩টি জয় ও ৬টি ড্রয়ে প্রসারিত হলো, যা তার “উইন গ্যারান্টি” খেতাবকে আরও সুদৃঢ় করে। কৌশলগত কাঠামোর ভেতর ব্যক্তিগত মেধা ও স্বতঃস্ফূর্ততার অনন্য সংমিশ্রণে তৈরি ইয়ামাল নিশ্চিতভাবেই বিশ্ব ফুটবলের বর্তমান ও ভবিষ্যতের সবচেয়ে উজ্জ্বল তারকা, যার পায়ের জাদুতে স্প্যানিশ ফুটবল লিখে চলেছে এক আধুনিক রূপকথা।