ট্রাম্পের নীতিকে মোদির চ্যালেঞ্জ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সোচ্চার হচ্ছে ভারত। নিজ দেশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়তে থাকায় সন্ত্রাসবাদ ইস্যু থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক শুল্ক-সব বিষয়েই ওয়াশিংটণের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক মতপার্থক্যগুলো এখন খোলাখুলি সামনে নিয়ে আসছে নতুন দিল্লি।
গত সপ্তাহে নিউ ইয়র্কে এশিয়া সোসাইটির একটি অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়ার সময় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ওয়াশিংটনের ভূমিকা নিয়ে অত্যন্ত কড়া ও স্পষ্ট মন্তব্য করেন। তিনি অভিযোগ করেন, সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারতের উদ্বেগ অনুধাবনে যুক্তরাষ্ট্র একটি অসংবেদনশীল অংশীদার হিসেবে আচরণ করেছে; উল্টো ভারতের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের প্রতি নমনীয়তা দেখিয়েছে এবং এমন কিছু স্বার্থপর বাণিজ্য নীতি গ্রহণ করেছে যা বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোকে চরম ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, দশকের পর দশক ধরে কৌশলগত মিত্রদের সঙ্গে আড়ালে মতপার্থক্য মেটানোর যে ঐতিহ্য ভারতের ছিল, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিহীন ও অনিশ্চিত আচরণের কারণে নিউ দিল্লি এখন সেই পথ থেকে সরে এসে সরাসরি পরোক্ষ লড়াইয়ের পথ বেছে নিয়েছে।
ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সম্পর্কে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তাপ চলছিল। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভারত অন্যতম বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার হলেও ভারতের অনুকূলে ৫৮.৪ বিলিয়ন ডলারের বিশাল বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রয়েছে। নতুন করে ওয়াশিংটনের আরোপ করা ১০ শতাংশ সার্বজনীন শুল্ক এবং সম্প্রতি ট্রাম্পের সই করা নতুন আইন—যার অধীনে রাশিয়া থেকে তেল কেনার অপরাধে ভারতের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানো হতে পারে-দুই দেশের সম্পর্ককে চরম সংকটে ফেলেছে। আগামী এক মাসের মধ্যে কার্যকর হতে যাওয়া এই বিশাল শুল্ককে সাবেক কূটনীতিকরা সম্পর্কের জন্য ডিল ব্রেকার বা চুক্তি পণ্ডকারী হিসেবে দেখছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, একটি দেশের স্বার্থপর সিদ্ধান্তের কারণে যেন অন্য দেশের জীবনযাত্রা কঠিন না হয়ে পড়ে, সেদিকে ন্যূনতম সাধারণ বুদ্ধির প্রয়োগ ঘটা উচিত।
